আজ ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন থাকায় সন্ধ্যার দিকে গিয়েছিলাম কেরানীগঞ্জের নিউ গুলশান সিনেমা হলে পুরোনো একটা সিনেমা ”বস্তির রাণী সুরিয়া” দেখতে, সাথে বাইক ছিল।
![]() |
| কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় নিউ গুলশান সিনেমা হল |
আমার বাসা থেকে প্রায় ৫ কিলো দূরে হওয়ায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘড়িতে সময় তখন ০৬:৪৬। হলের বাইরে হকার ও স্ট্রিট ফুডের দোকানের জন্য মোটামুটি ভির, কিন্তু টিকেট কাউন্টার ও ভিতরের লবি একদম ফাঁকা, কেচি গেটের সামনে বেঞ্চে দুইজন বসা আর তাদের সামনে টিকেট চেকার একজনের সাথে ডিল করছে।
আমি ভিতরে বাইক ঢুকিয়ে বললাম সিনেমা দেখব, টিকেট চেকার বসা দুইজনকে দেখিয়ে বলল কথা বলেন, বেঞ্চের উপর পায়ের উপর পা তুলে বসা মোটা লোকটাকে বললাম টিকেট দেন, উনি আমাকে বলে কাউন্টার বন্ধ টিকেট নাই। তারপর নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করলো কয়টা, আমি বললাম আমি একা, শুনেই উনি রেগে বলল “হইবো না, একটা টিকিটের লেইগা অহন উপ্রে উঠুম না”
আমি উনার কথা শুনে থ হয়ে গেলাম, বোঝার আর বাকি রইলো না যে উনি জোড়া খুঁজতেছে, আমার কাছে টিকেট বিক্রি করলে উনার এক্সট্রা লাভ হবে না। উনার প্রথম কথাতেই বোঝা দরকার ছিল যে কাউন্টার বন্ধ, এক্সট্রা কিছু বাড়িয়ে দিলে টিকেট দিবে। এর মধ্যেই দেখলাম টিকেট চেকার যার সাথে কথা বলছিল তাঁর কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিলো আর সাথে করে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো, পিছন পিছন একটা মেয়েও ঢুকলো।
আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখলাম তারা আমাকে দর্শক হিসেবে পাত্তাই দিলো না। অপমানিত হয়ে বাইক নিয়ে বের হয়ে এলাম। মনে মনে খুব রাগ হচ্ছিল যে সিনেমাটা বড় পর্দায় অনেকদিন পর দেখতে পারলাম না, ঠিক করলাম পাশেই লায়ন সিনেমা আছে, ওখানেই বাংলা সিনেমা দেখে ক্ষিদা মেটাবো।কিন্তু পকেটের বেহাল দশা। লায়নে সিনেমা দেখার খরচ দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩ দিনের বাজার করা যাবে। কি আর করার, লায়ন সিনেমার বিল্ডিং এর উল্টা পাশে বাইকের উপর বসে বসে লিখছি, মোবাইলে এমবিও নাই যে, এখনি পোস্ট করব। বাসায় গিয়েই পোস্ট করি।
আপনারাও প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের আফসোস শুনে আন্দোলন কইরেন। যে হলে দর্শক যায়না।

0 Comments